
মো. মারুফ কবির, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তা © ফাইল ছবি
বাংলাদেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা সংক্রান্ত নীতির মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং সক্রিয় তদারকি অংশীদার হলো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসমূহ। দেশে পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমান) সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধান করে থাকে এই শিক্ষা বোর্ডগুলো। সম্প্রতি একটি দৈনিকের মাধ্যমে ‘খাতা নিচ্ছেন না শিক্ষকরা, ফল পেতে দেরির ভয়’- শিরোনামে রিপোর্টটি অনেকের নজরে এসেছে। রিপোর্টটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার এবারের এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর খাতা মূল্যায়ন সম্পর্কে। এধরণের সমস্যা এবারই প্রথম এমন নয়, বিগত বছরগুলোতেও একই সমস্যা আমরা দেখে এসেছি। উক্ত রিপোর্টটি দেশের ১১টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অব্যবস্থাপনাজনিত সৃষ্ট সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
এ ধরনের সমস্যার মূল কোথায়, তা আগে উদঘাটন করতে হবেপ্রথমত, পাবলিক পরীক্ষার (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) খাতা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধিত শিক্ষকগণ মূল্যায়ন করে থাকেন। এসএসসি পর্যায়ে মাধ্যমিকের শিক্ষকগণ এবং এইচএসসি লেভেলে অধিকাংশ বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাগণের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষকগণ খাতা মূল্যায়ন করে থাকেন। বোর্ডে সহজে নিবন্ধিত হওয়া যায়, কিন্তু একজন সক্রিয় পরীক্ষক হিসেবে খাতা মূল্যায়নকারী হতে হলে প্রয়োজন উচ্চ পর্যায়ের লবিং। যার জন্য অসংখ্য যোগ্য শিক্ষক খাতা মূল্যায়নে অংশ নিতে পারেন না।
দ্বিতীয়ত, পাবলিক পরীক্ষার খাতা বণ্টনের পদ্ধতি অত্যন্ত হতাশাজনক। নির্ধারিত শিক্ষাবোর্ডে উপস্থিত হয়ে লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষককে খাতা সংগ্রহ করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে এমন ঘটনাও ঘটে যে একজন শিক্ষককে নির্দিষ্ট ফ্লোর থেকে খাতা ভর্তি থলে নিজের মাথায় করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নামাতে হয়েছে। যা একজন শিক্ষকের জন্য চরম অসম্মানের।

Leave a Reply