
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর হাত ধরে সেলুলয়েডের পর্দায় উঠে এসেছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, হলসংস্কৃতি, ছাত্ররাজনীতি এবং তরুণদের স্বপ্ন-সংগ্রামের এক নির্মম অথচ বাস্তব আখ্যান—‘ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি। তবে মুক্তির পরেই সিনেমাটির নাম এবং বিষয়বস্তু নিয়ে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দর্শকমহলে—ছবিটি কি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থাকে বিদ্রুপ করছে?
তরুণ নির্মাতা আকাশ হক পরিচালিত এই সিনেমাটি ইতিমধ্যে সমালোচক ও দর্শকমহলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও সাহসী ‘রাজনৈতিক স্যাটায়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা ক্যাম্পাস—গণরুম-গেস্টরুম কালচার, ক্ষমতার রাজনীতি, ‘বড় ভাই’ সংস্কৃতি এবং এর যাঁতাকলে পিষ্ট তরুণদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে হাস্যরস, তীব্র ব্যঙ্গ এবং গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ছবিটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সিনেমাটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্রুপ করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক আকাশ হক গণমাধ্যমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জগৎ আমাদের সবার খুব পরিচিত, কিন্তু খুব কম সময়ই তা সততা এবং নির্ভীকতার সঙ্গে বড় পর্দায় উঠে এসেছে। আমি এমন একটি গল্প বলতে চেয়েছি, যা দর্শককে একদিকে হাসাবে, অন্যদিকে নিজের চারপাশের বাস্তবতা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করবে। এই সিনেমা সেই সৎ চেষ্টারই ফল। কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিদ্রুপ করা নয়, বরং আয়নায় বাস্তবতাকে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
রনো আনোয়ারের জনপ্রিয় ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখবিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হাফিজ উদ্দিন মুন্না একে ‘সিলেবাসের বাইরের সিনেমা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি এমন কিছু প্রশ্ন এবং অভিজ্ঞতা সামনে নিয়ে আসে, যা পাঠ্যবইতে পাওয়া যায় না, কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবতায় প্রতিনিয়ত বিদ্যমান।
মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র ও দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে ‘দারুণ’ বা ‘অসাধারণ’ বললেও অনেকেই মনে করছেন এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই চলচ্চিত্রটি দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উৎসবগুলোতে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিপরেসি অ্যাওয়ার্ড’ (FIPRESCI Award), ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসবে’ সম্মানজনক ‘হীরালাল সেন মেডেল’ এবং সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার লাভ করেছে ছবিটি।
আপাতত রাজধানীর পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্স এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস—মাত্র দুটি প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পেয়েছে স্বল্প বাজেটের এই স্বাধীন চলচ্চিত্রটি। ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ ছবিতে প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাসসহ একঝাঁক নতুন ও সম্ভাবনাময় থিয়েটার কর্মী। চলচ্চিত্রের সংলাপে ঠাসা জনপ্রিয় দুটি গান ‘সহমত ভাই’ এবং ‘রাজনীতির ময়দান’ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বহুল প্…
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্ম কমিশনের (পি…
প্রবীণদের অধিকার রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের…
স্বনির্ভর, স্থিতিশীল ও শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করতে বর্তমান স…
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্যের সমালোচনা করে জা…
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্রাজ…

Leave a Reply